বুধবার, ২৪ Jun ২০২৬, ০৬:১২ অপরাহ্ন
সংবাদপত্রের সম্পাদক এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রধানরা প্রাক বাজেট আলোচনায় বলেছেন, এখনই দেশের তেল ও গ্যাসের দাম কমানো উচিত, কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যের দাম কমে গেছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম কমানো হলে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এছাড়া তারা বলেন, ব্যাংকের বড় ঋণ গ্রাহীতাদের কেন এতো ঢালাও ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এ সব ঢালাও ঋণ সুবিধার কোন যুক্তিকতা নাই।
মঙ্গলবার (২১ মার্চ) অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে পত্রিকা এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদকদেরা জুম মাধ্যমে প্রাক বাজেট আলোচনায় এসব কথা বলেছেন।
অর্থসচিব ফাতিমা ইয়াসমিন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর আবদু রউফ তালুকদার এই জুম প্রাক বাজেট আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন। অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব আবু দাইয়ান মোহম্মদ আহসানুউল্লাহ গত অর্থ বছরের প্রাক বাজেট মিডিয়া প্রধানদের সুপারিশ গুলোর বাস্তবায়ন তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, কিভাবে সরকার সম্পদ অর্জন করবেন। তার একটা রোডম্যাপ থাকতে হবে। এ সম্পদ আর আয় সরকার জনগণের কল্যাণে ব্যয় করতে পারবে। এখন করোনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্বের কারণে সরকার এখন খরচের কৃচ্ছতা সাধন করে যাচ্ছে। এজন্য সরকার খরচ কমাতে হচ্ছে। এ অবস্থা তো সবসময় থাকবে না।
তিনি বলেন, দেশের উন্নতি করতে হলে নিজের এলাকায় গিয়ে কাজ করতে হবে। এভাবে দেশ উন্নত পর্যায়ে চলে যাবে এ সম্পদ থেকেই।
ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ বলেছেন, জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমে আসছে। তাই দেশের জ্বালানি তেলের মূল্যটা বিবেচনার দাবি রাখে। তেলের দামটা একটু কমিয়ে দিলে অর্থনীতি এটা বেশ প্রভাব পড়বে। যখন দুই বার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয় তখন প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ছিল ১১০ ডলার, এখন তা কমে ৭২ থেকে ৭৩ এ ডলারে নেমে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, বড় বড় ঋণ গ্রাহীতাগুলো অনেক ধরনের ব্যাংকের বিশেষ ঋণ সুবিধা পাচ্ছে। এসব সুবিধা আর কত দিন দেওয়া হবে। বড় খেলাপিদের ঋণ রিসিডিউলের সুবিধা দেয়ার ফাঁক ফোঁকর বন্ধ করতে হবে।
শামসুল হক জাহিদ বলেন, পত্রিকায় দেখেছি আগামী বাজেট হবে ৭ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা। এ বড় বাজেটে রেভিনিউ আসবে কোথা থেকে এর একটা বাস্তব সম্মত ব্যাখ্যা থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন আগামী বাজেটে ভর্তুকি আর সুদের বরাদ্দ বাবদ টাকা রাখা হবে তা যেন যৌক্তিক হতে হবে।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন, বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়ম দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে। এ পর্যন্ত ব্যাংকে যেসব টাকা আটকে গেছে সেগুলো কিভাবে উদ্ধার করা যায় এবং মানি লন্ডারিং হয়েছে যে সব টাকা চলে গেছে কিভাবে ফেরত আনা যায় সে বিষয়ে সৃজনশীল পদ্ধতি বের করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের সংবাদপত্রকে বাঁচাতে হলে অবশ্যই সরকারের সব ধরনের সুবিধা দিতে হবে এটা সেবা খাত। গার্মেন্টের রপ্তানি থেকে আমাদের ট্যাক্স, আমদানি কর বেশি দিতে হচ্ছে। এটা কমাতে হবে। বিজ্ঞাপন বিলের ওপর ৪ শতাংশ ট্যাক্স কমাতে হবে। দেশীয় নিউজ প্রিন্টের ওপর ৫ শতাংশ ট্যাক্স কেন নিতে হবে। দেশীয় শিল্পকে বাঁচাতে হবে।
এখন বিজ্ঞাপন গুগলে চলে যাচ্ছে। আমাদের বিজ্ঞাপনের আরও বেশি করে ট্যাক্স আরোপ করতে হয়। এজন্য এনবিআরকে আরও কঠোর অবস্থান নিতে হবে বলে জানান তিনি।
ব্যাংকের বিশাল অনিয়মগুলো নিয়ে জনগণ এক ধরনের আতঙ্ক আছে। কিন্তু ব্যাংক বা অন্য কর্তৃপক্ষ থেকে এই ব্যাপারে স্পষ্ট কোন ধারণা বা চিত্র কখনো দেয়া হচ্ছে না। ব্যাংক খাত কি অবস্থায় আছে এবং সেটা আসলে কতটুকু আমরা ওয়ার্ক এবল করতে পারবো এ বিষয়ে বাজেটে সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া উচিত।
আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান বলেন , দেশীয় নিউজ প্রিন্টের প্রতি টনের দাম এখন ৯৫,০০০ টাকা থেকে ১ লাখ টাকা। গত বছরই এর দাম ছিল ৩৫,০০০ টাকা। দেশীয় নিউজ প্রিন্টের দাম এতো বাড়লো কেন? এটা সরকারকে অনুসন্ধান করতে হবে। এই অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি কমাতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকের টাকা বিদেশে নিয়ে যাচ্ছে অনেকেই। এরা কি সরকারের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে। বাজেটে এ নিয়ে ব্যাখ্যা থাকতে হবে। এছাড়া পিপলস লিজিং কোম্পানিকে বাঁচাতে সরকারকে আরও উদ্যোগী হতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, অর্থসচিব আগামী বাজেট ঘোষণায় ব্যাংকের পাচার হয়ে যাওয়া টাকা ফেরত নিয়ে আসার বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন।
তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো এনজিওর মাধ্যমে আর কৃষি ঋণ দিতে পারবে না। কোন ব্যাংক কৃষি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পারলে সেই ঋণের টাকা আমরা গবেষণা, কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে ব্যয় করবো। এখন এর পরিমাণ প্রায় ১০০০ কোটি টাকা। এ ব্যাপারে ১২টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।